Travelettes of Bangladesh
Empower women through traveling

আমার চোখে নারীর চোখে বাংলাদেশ



""নারীর চোখে বাংলাদেশ""
আমাদের মেয়েদের ভ্রমণ গ্রুপ "ট্রাভেলেটস অব বাংলাদেশ"এর একটা ইভেন্ট।কি কাজ, কেনো করি এসব প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়ে কিছু অভিজ্ঞতার কথা জানাতে মন চাইল 🙊🙊
প্রথমত আমি স্কুটি চালাতে পারি না,তাই পিলিয়ন হিসেবেই এখন পর্যন্ত দুইটা পর্বে গেছি,মোট ১০ টা জেলায়।স্কুটির  পিছনে বসার কারণে নিশ্চিন্তে অনেক কিছু দেখা যায়,অনুভব করা যায়।
প্রথম পর্বে যখন গেছি,তখন বাসায় জানাইনি স্কুটিতে যাব।তারা জানে ঘুরতে যাব,তাই সহজেই অনুমতি পেয়ে গেলাম।(কিন্তু টিভি,পত্রিকা,ফেসবুকের কল্যাণে সহজেই ধরা খেলাম)।ভাই রাগে কল দেয় নাই,মা সারাদিন কল দেওয়ার উপর ছিল।রওনা দেওয়ার পর আমাদের স্কুটির স্পিড ছিল ২০ কি.মির ও কম।রিক্সা, সাইকেল আমাদের ওভারটেক করে যাচ্ছে,তাচ্ছিল্যের হাসি দিচ্ছিল।কি আর করার, এই রকম করেই নারায়ণগঞ্জ এর পুরো আড়াইহাজার ঘুরলাম।স্পিড বাড়লো কুমিল্লা ঢোকার পথে, রাস্তাগুলো এত সুন্দর ছিল বলার মত না।
আসলে যতটা সহজ মনে হয়,জার্নিটা এত সহজ না।পিঠে ভারী ব্যাগ নিয়ে টানা ৪/৫ ঘন্টা  বা তার বেশী সময় স্কুটি চালানো আপুদের জন্য বেশ সহজ কাজ না।অনেক সময় এমন রাস্তা এসেছে,দুই পাশে দুই পুকুর আর মাঝখানে তিনহাত একটা রাস্তা। একটু এদিক ওদিক হলে ধপাস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। 
কসবা যাওয়ার পর, কিছু রাস্তা খারাপ পেয়েছি, জাস্ট রাস্তার উপর ইটের টুকরা বিছানো।
প্রথম পর্ব  শেষে কুমিল্লা থেকে ঢাকার ফেরার পথ,কে জানত হাইওয়ে আমাদের এত ভালবাসবে।অসম্ভব সুন্দর রাস্তার সাথে  সুন্দর বড় বড় বাস,ট্রাক।আমরা ভয়ে ট্রাক দেখলে স্কুটি মাটিতে নামিয়ে দেই,থেমে যাই।মজার  ব্যাপার হল প্রথম পর্বে আমি সাকিপুকে বলতাম, আপু পিছনে বাস,পিছনে ট্রাক 😆😆😆. হাইওয়েতে আমাদের স্পিড ছিল ৮০+।কপাল খারাপ থাকলে যা হয়,একটা সেতুর কাছে এসে এক স্কুটির চাকা পাংচার হয়ে যায়।ভাগ্যিস, রাস্তার পাশে চাকা ঠিক  করার দোকান ছিল।আমাদের ভুংভাং বুঝাইয়া কত্তগুলো টাকা নিয়ে বলে ঠিক হইছে।আমরা কিছু দূর যাওয়ার পর আবার চাকা বাকা হয়ে যায়😂😂😂অবশ্য পরের দোকান ভালো করে ঠিক করে দিছিল।
প্রথম সব কিছুই সুন্দর,সেটা প্রেম কিংবা জার্নি হোক।আমাদের প্রথম পর্ব হিসেবে প্রথম ৩ জেলার রাস্তা বেশ ভালো পেয়েছি,তাই অভিজ্ঞতাও খারাপ ছিল না।

 

শামসুন নাহার সুমা

ফারসি ভাষা ও সাহিত্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়